অস্ট্রেলিয়ার মুদ্রানীতি অস্বাভাবিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। তিনি জানান, গত বছর অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিতে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু দেশের ভোক্তা চাহিদা এখনো সম্ভাব্য উৎপাদনক্ষমতার তুলনায় বেশি। এতে নিকট ভবিষ্যতে মুদ্রানীতি শিথিল করার তেমন সুযোগ নেই। খবর রয়টার্স।
সিডনিতে গতকাল আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইউবিএস আয়োজিত এক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার (আরবিএ) ডেপুটি গভর্নর অ্যান্ড্রু হাউসার। সেখানে তিনি বলেন, ‘গত বছর যখন অস্ট্রেলিয়ায় জিডিপি প্রবৃদ্ধি আবার বাড়তে শুরু করে, তখন দেশের উৎপাদনক্ষমতার চেয়ে কিছুটা বেশি ছিল চাহিদা। ১৯৮০-এর দশকের পর কোনো পুনরুদ্ধারকালেই অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি এতটা চাপের মধ্যে ছিল না।’
এর অর্থ হলো অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিকে সম্প্রসারণের প্রচেষ্টা মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেবে।
অ্যান্ড্রু হাউসার বলেন, ‘এ অবস্থায় থেকেও মাঝারি মেয়াদে মূল্যস্ফীতিকে লক্ষ্যমাত্রায় নামানো সম্ভব। তবে সেটা করতে হলে সুদহার ও মুদ্রানীতিকে কিছুটা কঠোর রাখতে হবে, যাতে চাহিদা ধীরে ধীরে কমে এসে উৎপাদনক্ষমতার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ হয়।’
তার মতে, অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতার অনুপস্থিতির মানে হলো ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ততা ও কর্মসংস্থান বাড়া। কিন্তু নীতিনির্ধারণের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জ।
গত সপ্তাহে সুদহার ৩ দশমিক ৬ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখে আরবিএ। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় মূল্যস্ফীতির উল্লম্ফন, ভোক্তা ব্যয় বৃদ্ধি ও আবাসন বাজারের পুনরুজ্জীবন। অবশ্য চলতি বছর দেশটিতে তিন দফায় সুদহার কমানো হয়েছিল।
এখন নীতিনির্ধারকদের মত হলো, অস্ট্রেলিয়ায় উৎপাদনক্ষমতার ঘাটতি আগের পূর্বাভাসের তুলনায় বেশি হতে পারে। ফলে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি ২-৩ শতাংশ লক্ষ্যসীমার ওপরে থাকবে। অস্ট্রেলিয়ার কমনওয়েলথ ব্যাংক ও এইচএসবিসির অর্থনীতিবিদরা চলমান সুদহার কমানোর চক্রের ইতি টানার আহ্বান জানিয়েছেন সম্প্রতি। বাজারে পূর্বাভাস রয়েছে, আগামী বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত এক দফা সুদহার কমানো হতে পারে।
অ্যান্ড্রু হাউসারের মতে, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও নতুন সক্ষমতায় বিনিয়োগের মাধ্যমে চাহিদা ও সরবরাহের টানাপড়েন সামাল দেয়া যাবে। এ পরিস্থিতিতে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ব্যর্থ হলে অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়তে পারে।